২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায়। নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইরান।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রয়াত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ-র নামানুসারে তৈরি নতুন মাল্টি-ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের বন্দরনগরী হাইফা-র একটি তেল পরিশোধনাগার।

ইসরায়েলও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি তেল শোধনাগারে আঘাত হানলেও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার পর প্ল্যান্টটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।

আইআরজিসির দাবি, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া অভিযানে তারা মোট ৬৬ দফায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় হাইফা ও আশদোদ-এর জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে হামলার মুহূর্ত ধরা পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তেলআবিব ও জেরুজালেম-সহ উত্তর ও দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে পাল্টা জবাবে শুক্রবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরান-এ চার থেকে পাঁচ দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আইআরজিসি-সংযুক্ত একাধিক নৌযানে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এখন পর্যন্ত এই সংঘাতের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা