২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আফগান জনগণ পাকিস্তানের ভাই-বোন : শাহবাজ শরীফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দমনের বিষয়ে পাকিস্তানের দাবির প্রেক্ষিতে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান এখনো কোনো দৃশ্যমান বা গুরুতর প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অথচ আফগান জনগণ পাকিস্তানের কাছে ‘ভাই ও বোন’-এর মতো। সে বিবেচনায় ইমারাতে ইসলামিয়ার দায়িত্ব ছিল অন্তত নিজেদের জনগণের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইসলামাবাদে খাইবার পাখতুনখোয়া বিষয়ক এক নিরাপত্তা কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত করতে চায় না। তবে চলমান নিরাপত্তা হুমকির কারণে ইসলামাবাদ বাধ্য হয়ে সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করেছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান বারবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা কাবুলকে জানিয়েছে। কিন্তু আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সংযত করার বিষয়ে আফগান কর্তৃপক্ষ খুব কমই প্রতিশ্রুতি বা আগ্রহ দেখিয়েছে।

তিনি জানান, তা সত্ত্বেও পাকিস্তান সংলাপের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আফগানিস্তান শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চায় কি না।

শাহবাজ শরিফ বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ অনেকটাই নির্মূল করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর আবার হামলা বেড়েছে, এবং বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটছে।

তিনি আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, কয়েক দশক ধরে প্রায় ৪০ লাখ আফগান নাগরিক পাকিস্তানে বসবাস করেছেন। আন্তর্জাতিক সহায়তা থাকলেও অনেক সময় পাকিস্তান নিজস্ব সম্পদ থেকেই তাদের সহায়তা দিয়েছে।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো অনুগ্রহ করিনি; আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু তারা যেভাবে আমাদের প্রতিদান দিচ্ছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক।”

দোহা চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আফগানিস্তান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তাদের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, “আফগানিস্তানের জন্য যা ভালো, তা পাকিস্তানের জন্যও ভালো। আর পাকিস্তানের জন্য যা ভালো, তা আফগানিস্তানের জন্যও ভালো।” শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই সামনে এগোনোর একমাত্র কার্যকর পথ বলে তিনি জোর দেন।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের বিভিন্ন কর্মকর্তা বারবার দাবি করেছেন, পাকিস্তানের ভেতরে সংঘটিত হামলাগুলোর পরিকল্পনা আফগান ভূখণ্ড থেকেই করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে আফগান সরকার। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানের “নিরাপত্তা ব্যর্থতার” জন্য আফগানিস্তান দায়ী নয়।

সূত্র: আরিয়ানা নিউজ