১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মোদির ‘বোন’ হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠাতে বললেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

দিল্লিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কিত দুইটি ভিন্নধর্মী ইস্যু আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে, দিল্লিতে অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় মুসলিম রাজনীতিবিদ ও অল ইন্ডিয়া মসলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর চাপের অভিযোগের মধ্যে চলতি আইপিএলে খেলার সুযোগ হারিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। নিলামে কিনলেও পরবর্তীতে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই দুই ঘটনাই রাজনীতি ও খেলাধুলার ভিন্ন পরিসরে হলেও, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠেছে।

এ প্রসঙ্গ টেনে ওয়াইসি বলেন, একটি পক্ষ প্রচার করছে মুস্তাফিজকে ‘পাঠিয়ে’ দেওয়া হয়েছে, অথচ দিল্লিতে মোদির বোন সেজে থাকা শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর কথা তারা বলছে না।

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, “মুস্তাফিজকে ‘পাঠিয়ে’ দেওয়া হয়েছে বলছে। আমি বলব দিল্লিতে মোদির বোন সেজে যে শেখ হাসিনা বসে আছে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান।”

রোববার (৪ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “তারা মহারাষ্ট্র ও মুম্বাইয়ের মানুষকে বলছে ‘দেখো আমরা এক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছি। আরে, আরেকজনকে ফেরত পাঠান যে দিল্লিতে মোদির বোন সেজে বসে আছে। আপনারা কি চান তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হোক? তাহলে স্লোগান তুলুন, নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।’”

তিনি বলেন, “মোদিজি শুনুন, আওয়াজ আসছে, তাকে ধরুন, বের করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান।”

জালগাঁওয়ে এক মুসলিমকে হত্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জলগাঁওয়ের যে সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে তাকে নিয়ে কেন আপনারা ক্ষুব্ধ হন না, মোদিজি, ফাদনাভিসজি?”

ওয়াইসি বলেন, “২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম যে দাবিটি উঠেছিল, তা ছিল পুনেতে মোহসিন শেখের হত্যাকাণ্ডের বিচার। আবার জলগাঁওয়ে সুলেমান পাঠানকে তার নিজের বন্ধুরাই পিটিয়ে হত্যা করে শহীদ করে দিল।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যদি কোনো হিন্দু মারা যায়, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা মানুষ হত্যা করে, আমরা তাদের ‘জালিম’ বলি। জলগাঁওয়ে যারা সুলেমান পাঠানকে মেরেছে, তারাও জালিম। তাদেরও সমানভাবে নিন্দা করা উচিত। বাংলাদেশ হোক বা ভারত মানুষের জীবন তো জীবনই। একজন হিন্দুর জীবনের যেমন মূল্য আছে, একজন মুসলমানের জীবনেরও তেমনি মূল্য আছে। অথচ আজ সব বিজেপি নেতারা টিভিতে গলা ফাটাচ্ছেন যে ‘আমরা একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি।’ আরে শুনুন, আপনারা কি সবাইকে বোকা বানাতে চান? স্রেফ একজন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আর তাতেই বিজেপি বলছে এটা নাকি ইতিহাসের এক বিশাল সাফল্য!”

তিনি বলেন, “এখন শুনুন ভারতের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভারত ও মহারাষ্ট্রের আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা আপনারা একজন ক্রিকেটারের চুক্ত বাতিল হওয়ায় মিষ্টি বিলি করছেন? তাহলে নরেন্দ্র মোদিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, এই বছর মোদি বাংলাদেশকে ১২০ কোটি টাকা দিয়েছেন কি দেননি? আমাকে বলুন। ১২০ কোটি টাকা অনুদান ও সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে বাংলাদেশে যাচ্ছে। আর শুনুন আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা, গত ১০ বছরে মোদি বাংলাদেশকে কত টাকার ‘লেটার অফ ক্রেডিট’ দিয়েছেন? ৮ বিলিয়ন! ৮ বিলিয়ন ডলার! আর আপনারা গালি দেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে?”

তিনি আরও বলেন, “শুনুন, আমি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নই এবং ইনশাআল্লাহ কখনো হবও না। কিন্তু মজলুমের জন্য ইনসাফ চাওয়া যদি অপরাধ হয়, মোহসিন শেখের খুনিদের শাস্তি দাবি করা যদি অপরাধ হয়, জলগাঁওয়ে সুলেমান পাঠানকে যারা মারল তাদের বিচারের আওতায় আনা যদি অপরাধ হয় তবে খোদার কসম, আমি যতদিন বেঁচে থাকব এই ‘অপরাধ’ করে যাব।”

তিনি বলেন, “ওই ক্রিকেটারের ব্যাপারে আরও শুনুন তাকে কোনো একটা দল ১০ কোটি টাকায় কিনেছিল। অথচ আপনারা ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে সাহায্য আর অনুদান বাবদ দিয়েছেন ১২০ কোটি টাকা। ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে মোদি সরকার বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন ডলারের এলওসি দিয়েছে। ৮ বিলিয়ন! আর আপনারা ঘৃণা করেন মুসলমানদের?”

তিনি বলেন, “আমি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে, বাংলাদেশে আমাদের হিন্দু ভাই-বোনদের মন্দিরগুলো রক্ষা করা উচিত। আপনারা সেখানে টাকা দিচ্ছেন, আর এদিকে মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের জন্য মুম্বাই আর মহারাষ্ট্রের মানুষকে বলছেন ‘দেখো, আমরা একজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি।’”