রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার ইউরোপের কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধের ইচ্ছা নেই; তবে কোনো পক্ষ সংঘাত উসকে দিলে মস্কো ‘তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত’।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) মস্কোতে এক বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
পুতিন অভিযোগ করেন, ইউক্রেনকে পশ্চিমাদের সমর্থনের মাধ্যমে ইউরোপ যুদ্ধের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দ্রুত এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে মস্কোর সঙ্গে আলোচনা করার মতো কেউ থাকবে না।’
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করার ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করছে। ইউক্রেন আগ্রাসন বন্ধ করার ইউরোপীয় দাবিও মস্কোর কাছে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুতিন জানান, রাশিয়া আলোচনায় বসতে চায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, কারণ ইউরোপীয় নেতারা মার্কিন প্রশাসনের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় বসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানান।
এদিকে জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার নতুন রির্পোট বলছে, রাশিয়া ২০২৯ সালের মধ্যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অপশন তৈরি করছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাডেফুল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জরুরি সতর্কতা দিচ্ছে—রাশিয়া অন্তত এমন সক্ষমতা তৈরি করছে যাতে ২০২৯ সালের মধ্যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে হবে।
ইউরোপজুড়ে রাশিয়া-সমর্থিত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বেড়েছে বলেও সতর্ক করেছেন জার্মান কর্মকর্তা। এর মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড হামলা, সাইবার আক্রমণ, নাশকতার চেষ্টা এবং ন্যাটোর আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অনুপ্রবেশ। অজ্ঞাত ড্রোনের কারণে সম্প্রতি বাল্টিক দেশগুলো, পূর্ব ইউরোপ, বেলজিয়াম ও জার্মানির একাধিক বিমানবন্দর অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া রুশ যুদ্ধবিমান এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে।
ইউরোপ–রাশিয়া উত্তেজনা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
সূত্র: ইউরো নিউজ