১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণভোট পরিচালনার জন্য একটি স্পষ্ট আইন প্রণয়ন জরুরি : সিইসি

গণভোট পরিচালনার জন্য একটি স্পষ্ট আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, কীভাবে গণভোট হবে— সেই আইন আগে করা প্রয়োজন। আইন হলে তখন নির্বাচন কমিশনের ওপর আনুষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা আসবে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সংলাপের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, সকালে বহু বক্তা গণভোট প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু আইন ছাড়া গণভোটের পদ্ধতি, ব্যালট, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গণভোট আইন করেছিলেন। এখন আবার নতুন আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। আইন হলে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে প্রস্তুতি ও অনুশীলন শুরু করবে।

পাকিস্তান আমল থেকে নির্বাচন দেখে আসার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এগোতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতার চাপ বুঝতে হয়, তাই কম কথা— বেশি কাজ— এই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীন উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, গোপন কিছু করতে চান না। সাংবাদিকদের ক্যামেরা থাকবে, ইসির সিসিটিভিও থাকবে— এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ন্যায়নীতি, আইন ও বিধি বিষয়ে কোনো আপস করবে না। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে কমিশন অটল থাকবে। এজন্য রাজনৈতিক দল, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভোটারদের সহযোগিতা দরকার।

দুপুরের সেশনে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) এবং বাসদ মার্কসবাদী (নতুন দল)-এর সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে অংশ নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আরও কয়েকটি দল। ১৩, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সেশনগুলোসহ মোট ৩৬টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।