ভারতে মুসলিমদের দেশপ্রেম নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলায় বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সমালোচনা করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ভারতের জন্য মুসলিমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় তাঁরা ভবিষ্যতেও ভূমিকা রাখবেন।
গত রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক আবদুল্লাহ আরও বলেন, মুসলিমদের বারবার নিজেদের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে বাধ্য করা উচিত নয়। বিজেপি ও আরএসএসের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সব সময় মুসলিমদের দিকে আঙুল তোলেন এবং পাকিস্তানি বলে আখ্যা দেন। আমি বিজেপি ও আরএসএসকে বলতে চাই, আমরা এই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছি। গতকালও রক্ত দিয়েছি, আজও দিচ্ছি, আগামী দিনেও দেব।’
তিনি বলেন, মুসলিমরা ভারতেই বসবাস করতে চান এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে চান।
বক্তব্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনেরও সমালোচনা করেন ফারুক আবদুল্লাহ। ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশে এক কোটির বেশি হিন্দু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তাঁরাও কি পাকিস্তানি?’
তবে ভোটার বাদ পড়ার এই সংখ্যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মধ্যেই তিনি এসব মন্তব্য করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ব্যাপকভাবে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
ভারতের সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকর ও সংবিধানের কথা উল্লেখ করে ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ভোট দেওয়ার অধিকারও সবার জন্য সমান।
তিনি ধর্মীয় বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ‘হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন ও পারসি সবাই ভারতীয়। তাঁরা ভারতীয় হিসেবেই বাঁচবেন এবং ভারতীয় হিসেবেই মৃত্যুবরণ করবেন।’
সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হলেই ভারত শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ হয়ে উঠতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র : মুসলিম মিরর