মেক্সিকোর স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে মুঠোফোন

মেক্সিকোর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের এ উদ্যোগের লক্ষ্য শিশুদের প্রযুক্তিনির্ভরতা, মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক চাপ কমানো। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে নতুন এ নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে না। তবে শিক্ষকের নির্দেশনায় শিক্ষণীয় কাজে, জরুরি শারীরিক প্রয়োজনে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ফোন সঙ্গে রাখতে পারবে।

বিশ্বের শতাধিক দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে মেক্সিকো সরকারও এ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে দেশটির জনশিক্ষা সচিব মারিও দেলগাদো বলেছেন, এই উদ্যোগ কম বয়সীদের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি আসক্তি এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোডেভেলপমেন্ট গবেষক ড. লুসিয়া মেগিস-ওয়েনবার্গও এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগ ও তথ্যপ্রাপ্তিতে প্রযুক্তির ভূমিকা থাকলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি, যা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে রাখে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব প্যারেন্টসের সভাপতি ইসরায়েল সানচেজ সরকারের সিদ্ধান্তকে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে নীতিটি কার্যকর করতে অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

তবে সহিংসতাপ্রবণ এলাকার অনেক অভিভাবক এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, জরুরি পরিস্থিতিতে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সুশীল সমাজের সংগঠন ‘নেটওয়ার্ক ফর চিলড্রেনস রাইটস ইন মেক্সিকো’র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি ১০ শিশুর একজন সংগঠিত অপরাধের শিকার হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সিনালোয়া রাজ্যের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব প্যারেন্টসের প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো ওরটিজ অভিযোগ করেছেন, অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে, এটি অভিভাবকত্বের অধিকার ও পিতামাতার কর্তৃত্বের পরিপন্থী।

একই উদ্বেগ জানিয়েছেন তমাউলিপাস রাজ্যের রেনোসার বাসিন্দা বেনিগ্নো গোমেজ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর প্রয়োজনীয়তা তিনি বুঝতে পারেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সন্তানদের কাছে ফোন না থাকার বিষয়টি মেনে নেওয়া কঠিন।

এদিকে চলতি মাসেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে মেক্সিকো সরকার। এর আওতায় ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন সহিংসতা, সাইবার বুলিং ও অন্যান্য বেআইনি উপাদান দ্রুত সরিয়ে নিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্য করা হবে।

Home R3