ভারতের গুজরাটে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির চেষ্টার মামলায় তিন মুসলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে একটি আদালত। রায় ঘোষণার সময় হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ ও মনুস্মৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে গরুকে ‘বিশ্বমাতা’ হিসেবে অভিহিত করেন বিচারক। গরু জবাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান নিয়ে ঘটনাটি গুজরাটের কঠোর আইন প্রয়োগের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোলের একটি দায়রা আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন ওয়াসিম কুরেশি, মহম্মদ রফিক কুরেশি ও আসফাক বেহলিম। তাদের প্রত্যেককে কঠোর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বি আর রাজপুত গুজরাটের প্রাণী সংরক্ষণ (সংশোধনী) আইন এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনের আওতায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। দণ্ডের সঙ্গে প্রত্যেককে জরিমানাও করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জরিমানার পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রত্যেকের ৩ লাখ রুপি জরিমানার কথা বলা হয়েছে। আবার কিছু প্রতিবেদনে ২ লাখ রুপির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি ২০২৪ সালের ২২ আগস্টের। ওই দিন গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামে লালাভাই সেনমার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। সেখানে ওয়াসিম, মহম্মদ রফিক ও আসফাকের কাছ থেকে ২৭৭ কেজি গরুর মাংস উদ্ধার করা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়। মাংসের আনুমানিক মূল্য ছিল ৫৫ হাজার রুপি।
পুলিশ ওই সময় গরু জবাইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা অস্ত্র এবং মাংস পরিবহনে ব্যবহৃত একটি যানবাহনও জব্দ করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের পরিকল্পনা ছিল গুলাম মইন কুরেশির কাছে মাংস বিক্রি করা।
এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিচার শেষে তাদের মধ্যে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।