আফগানিস্তানের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রতিবেশী কিছু দেশ ইতিবাচকভাবে নিতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির গ্রামীণ পুনর্বাসন ও উন্নয়নমন্ত্রী মাওলানা আবদুল লতিফ মনসুর। কাবুলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসব দেশ সুপ্রতিবেশীসুলভ মৌলিক নীতিও মেনে চলছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পাঞ্জশিরে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে মাওলানা আবদুল লতিফ মনসুর বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া যাবে না। বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি অনুগত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবার আন্তরিক থাকা উচিত এবং এই শাসনব্যবস্থাকে খাটো করে দেখা সমীচীন নয়। এখানে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তিরা কাজ করছেন। অভ্যন্তরীণ বিভেদ তৈরি হলে তা বহিরাগত স্বার্থান্বেষী মহলকে হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করে দেবে।
উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের গতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইতিমধ্যে দেশটির ২৩টি প্রদেশে ৩ হাজার ২০০টিরও বেশি সামাজিক ও জীবিকা-সহায়ক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সামগ্রিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বিরোধীদের ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, কিছু শক্তি ইসলামের প্রতি প্রকাশ্য শত্রুভাবাপন্ন, আবার কিছু প্রতিবেশী রাষ্ট্র আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতায় ঈর্ষান্বিত। এছাড়া দেশের কিছু পলাতক ব্যক্তি বাইরে বসে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে সক্রিয় রয়েছে।
সমাবেশে পাঞ্জশিরের উপ-গভর্নর আসাদুল্লাহ সিনান সড়ক ও বিদ্যুৎ সুবিধার মতো জরুরি নাগরিক পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন। ঘোষিত প্রকল্পের আওতায় শুধু পাঞ্জশির প্রদেশেই ৫০ লাখ ৬৬ হাজার ডলার ব্যয়ে মোট ১২৭টি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে জোর তাগিদ দিয়ে পাঞ্জশিরের গভর্নর হাফেজ মুহাম্মদ আঘা হাকিম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড ও প্রস্তাবনা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করে কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দেন।
গ্রামীণ পুনর্বাসন ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় এই প্রকল্পের আওতায় মূলত গ্রামীণ সড়ক, সেচ খাল, টেকসই সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশজুড়ে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় জোরদার করতেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সূত্র: টোলো নিউজ