ব্রিটিশ লাইফস্টাইল সাময়িকী মনোকল (Monocle)-এর ২০২৬ সালের কোয়ালিটি অব লাইফ সার্ভে অনুযায়ী, জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় সেরা শহর হয়েছে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন। গত বছরের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে এবার শহরটি শুধু জাপানের টোকিও ও ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের পেছনে অবস্থান করেছে।
বার্ষিক এই জরিপে নিরাপত্তা, যাতায়াত ব্যবস্থা, সুশাসন, সংস্কৃতি, সবুজ পরিবেশ এবং বসবাসের উপযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এ তালিকায় লিসবনের পর রয়েছে ভিয়েনা, সিডনি, জুরিখ, মাদ্রিদ, প্যারিস, মিউনিখ ও অসলো।
মনোকলের মতে, লিসবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বিনিয়োগই এ সাফল্যের মূল কারণ। বছরে প্রায় ২ হাজার ৮০৬ ঘণ্টা রোদ, সুস্বাদু খাবার, ঐতিহাসিক স্থাপনা, কম অপরাধপ্রবণতা, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার কারণে শহরটি বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছে।
সাময়িকীটি আরও জানিয়েছে, লিসবনের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। প্রায় ৭০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শহরে নতুন ট্রামলাইন নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, লিসবন শহরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বাস করেন। আর পুরো মহানগর এলাকায় জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। শহরের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা সবুজ উন্মুক্ত স্থান। মাসিক গণপরিবহন পাসের দাম ৪০ দশমিক ৫০ ইউরো। এখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশ্বের ১৪৪টি গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এছাড়া শহরে সাইকেল ব্যবহারকারীর হার ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
তবে ভালো অবস্থান অর্জনের পাশাপাশি মনোকল সতর্কও করেছে। তাদের মতে, লিসবনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে আবাসন, সরকারি সেবা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।
বিশেষ করে আবাসন সংকটকে শহরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে সাময়িকীটি। তারা মনে করছে, নীতিনির্ধারকদের এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে শহরটি স্থানীয় বাসিন্দা ও ধনী বিদেশি বাসিন্দাদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে না পড়ে।
এ ছাড়া তাগুস নদীর দুই তীরের যোগাযোগ আরও উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে মনোকল। তাদের মতে, আরও দ্রুত, পরিবেশবান্ধব ও ঘন ঘন ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রে টুকটুকের সংখ্যা কমানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ, এগুলো যানজট সৃষ্টি করে এবং লিসবনের ঐতিহ্যবাহী ট্রাম চলাচলে বাধা দেয়।
মনোকলের ২০২৬ সালের এই জরিপে বিশ্বের ৪০টি শহরের প্রতিনিধিদের মতামত এবং ৩০টি সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। এসব সূচকের মধ্যে ছিল নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারি সেবা, সবুজ পরিবেশ, সংস্কৃতি, কেনাকাটার সুযোগ, রেস্তোরাঁ এবং সামগ্রিক নগরজীবনের মান। এ বছর জরিপে শহরের উন্নয়নের লক্ষ্য, নাগরিকদের আশাবাদ এবং নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালে জীবনযাত্রার মানে শীর্ষ ১০ শহর:
১। টোকিও (জাপান)
২। কোপেনহেগেন (ডেনমার্ক)
৩। লিসবন (পর্তুগাল)
৪। ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া)
৫। সিডনি (অস্ট্রেলিয়া)
৬। জুরিখ (সুইজারল্যান্ড)
৭। মাদ্রিদ (স্পেন)
৮। প্যারিস (ফ্রান্স)
৯। মিউনিখ (জার্মানি)
১০। অসলো (নরওয়ে)
সূত্র : দ্য রেসিডেন্ট