তুরস্কের জলসীমায় অবরুদ্ধ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এবার মিশরেও প্রবেশের অনুমতি পায়নি সমকামী ও রূপান্তরকামী (এলজিবিটিকিউ+) সম্প্রদায়ের একটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরি। ‘ভার্জিন ভয়েজেস’-এর চার্টার্ড করা ‘স্কারলেট লেডি’ নামের বিলাসবহুল জাহাজটিতে প্রায় দুই হাজার যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ব্রডওয়ে পারফর্মার পাত্তি লুপোনও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে যাত্রীরা তাদের কেবিনে একটি নোটিশ পান। সেখানে জানানো হয়, জাহাজটি জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প বন্দরের সন্ধান করছে। পরে জানা যায়, মিশর কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে তাদের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি, ফলে নির্ধারিত আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে নোঙর করা সম্ভব হয়নি।
জাহাজটি চার্টার্ডকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস’-এর প্রধান নির্বাহী রিচ ক্যাম্পবেল যাত্রীদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় বলেন, খুব ভোরে তাদের জানানো হয়েছে যে, স্কারলেট লেডিকে মিশরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে পূর্বনির্ধারিত সফরসূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তিনি জানান, গত বছর একই রুটে কোনো সমস্যা হয়নি, তাই এ সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বিস্ময়কর।
তিনি আরও বলেন, এই সফরটি অনেক যাত্রীর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। আলেকজান্দ্রিয়ায় যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় যাত্রীরা যেমন হতাশ, আয়োজকরাও সমানভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে, গ্রিসের অ্যাথেন্স থেকে ইতালির ভেনিসগামী ১০ দিনের এই ক্রুজটি তুরস্কেও প্রবেশ করতে পারেনি। তুর্কি কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজটিতে থাকা যাত্রীদের আচরণ তাদের সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এ ধরনের কার্যক্রম জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
জাহাজের এক যাত্রী র্যান্ডি স্লোভাসেক তার ব্লগে লেখেন, অ্যাটলান্টিস ইভেন্টসের ৩৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জাহাজকে বন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলো। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দেশে একই ঘটনা ঘটায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
এদিকে, এলজিবিটিকিউ+ ভ্রমণসংশ্লিষ্ট আরেক প্রতিষ্ঠান ‘হার্মিস হলিডেস’-এর মালিক কাইল ওলসেন বলেন, তুরস্কের সিদ্ধান্তের প্রভাবেই হয়তো মিশর এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে তিনি তার গ্রাহকদের এসব দেশে ভ্রমণের পরামর্শ নাও দিতে পারেন।