সৌদি আরব সরকার ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আবাসন খাতকে আরও কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন সম্পত্তি ক্রয় নীতিমালা অনুমোদন করেছে। এই নীতিমালায় কঠোর তথ্য প্রকাশ, বাধ্যতামূলক ডিজিটাল প্রক্রিয়া এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনাবাসী বিদেশি ব্যক্তি, বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি অংশীদার থাকা সৌদি কোম্পানির সব ধরনের রিয়েল এস্টেট লেনদেন এখন থেকে রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত ইলেকট্রনিক পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
বিদেশি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সম্পত্তি ক্রয়ের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদিতে নিজ নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং ওই আইডির সঙ্গে সংযুক্ত স্থানীয় মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে, যাতে লেনদেনে স্বচ্ছতা ও পরিচয় যাচাই নিশ্চিত করা যায়।
বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাদের বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হতে হবে এবং প্রকৃত মালিকদের (বেনিফিশিয়াল ওনার) তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া একজন অনুমোদিত আইনি প্রতিনিধি নিয়োগ এবং স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা বাধ্যতামূলক। মালিকানায় ৫ শতাংশ বা তার বেশি পরিবর্তন কিংবা পরিচালনা পর্ষদে বড় কোনো পরিবর্তন হলে ১৫ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
পারিবারিক মালিকানার ক্ষেত্রে, কোনো বিদেশি ব্যক্তি আবাসিক সম্পত্তি কিনলে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নির্ভরশীল হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে একই পরিবারের সদস্যরা আলাদাভাবে একাধিক সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন না। তবে বিবাহবিচ্ছেদ বা সন্তানদের বয়স ২৫ বছর অতিক্রম করলে এই বিধিনিষেধ শিথিল হবে।
নতুন নীতিমালায় ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় মক্কা ও মদিনায় বিদেশিদের সম্পত্তি মালিকানায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। এই দুই পবিত্র নগরীতে সম্পত্তি ক্রয়ের অধিকার কেবল মুসলিম নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত।
এছাড়া রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বিদেশিদের সম্পত্তি লেনদেনে ২ শতাংশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উত্তরাধিকার, আদালতের রায়, জনস্বার্থে অধিগ্রহণ এবং ওয়াকফসহ নির্দিষ্ট ১০টি ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য হবে না।
আইন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জালিয়াতি বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সম্পত্তি অর্জনের চেষ্টা করলে সম্পত্তির মূল্যের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১ কোটি রিয়াল জরিমানা করা হতে পারে। এছাড়া তথ্য গোপন বা তদন্তে বাধা দিলে সতর্কবার্তা ও আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে শাস্তি দেওয়ার আগে সংশোধনের জন্য ১০ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।
সব ধরনের লেনদেন সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদিত ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরই চূড়ান্ত মালিকানা দলিল হস্তান্তর করা হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ।