১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা

হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি করেছে।

রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের হামলার জবাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হলেও ইরান তা অমান্য করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি আরও জানায়, ইরানের উপকূলীয় বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ইরানের হাতে রয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

Home R3