যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্রহী হলেও ইরান নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর উভয় পক্ষই সরাসরি বড় সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহ দেখালেও পাল্টাপাল্টি সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে বিমান ও নৌবাহিনীকে প্রস্তুত অবস্থায় রেখেছে। অন্যদিকে ইরানও তাদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখে সাম্প্রতিক হামলার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান মুখোমুখি অবস্থান যেকোনো সময় ভুল হিসাব বা ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি দেখিয়ে তেহরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করতে চাইলেও ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে প্রয়োজন হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাতে প্রস্তুত।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে আলোচনার এ পর্যায়ে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে উঠেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল করলেও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুরোপুরি চালু করতে তেহরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত দেওয়া।
এ পরিস্থিতির প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। বিকল্প পথে তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত সমাধান চাইলেও বাস্তব পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের শক্ত প্রতিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল প্রত্যাশামতো সফল হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এই সংঘাত ক্রমে অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা নতুন সামরিক পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
অন্যদিকে ইরান এই সংঘাতকে তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। ফলে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও তারা অবস্থান পরিবর্তনে অনাগ্রহী।
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোও এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চলমান উত্তেজনা বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির। বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো ভুল পদক্ষেপ বড় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।