ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। দুই নেতার সাম্প্রতিক ফোনালাপে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, গত কয়েকদিন ধরে দুই নেতার মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববারের এক ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানান, সপ্তাহের শুরুতে ইরানের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই অভিযানের সম্ভাব্য নামও নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’।
তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদলান ট্রাম্প। তিনি জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ইরান ইস্যু এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। হয় একটি চুক্তি হবে, না হলে কঠিন সিদ্ধান্ত আসবে।”
অন্যদিকে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ইসরাইলি সূত্রগুলো বলছে, হামলা বিলম্বিত হলে তেহরান সুবিধা পাবে বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবারের ফোনালাপে নেতানিয়াহু প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানান, হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি এবং সামরিক অভিযান দ্রুত শুরু করা উচিত।
এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প এখন কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে নেতানিয়াহু দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ চান।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফরকে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প আবারও সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।