১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। তিনি জানান, প্রতি বছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে মাসব্যাপী ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও লুটপাটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে অন্তত আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন। এ সময়ে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) থেকে প্রাপ্ত অর্থের তুলনায় আমদানি ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা একটি কঠিন কাজ হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা সম্ভব।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আসমান থেকে টাকা আসবে না; কঠোর পরিশ্রম ও স্থিতিশীল পরিবেশের মাধ্যমেই আমাদের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড় করাতে হবে।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে ভোটারবিহীনভাবে ক্ষমতায় আসা একটি সরকার জনগণের মধ্যে বিভাজন ও ধর্মীয় বিভেদ তৈরি করেছিল। তবে বর্তমান সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তিনি জানান, জাতীয় সংসদে গঠনমূলক বিতর্ক অব্যাহত থাকবে, তবে সেই বিতর্ককে কেন্দ্র করে কেউ যাতে রাজপথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, যা দেশের ঐক্য নষ্টের চেষ্টা। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ধর্ম মানি, তবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল।

আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই বছর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা না গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক (হাফি) এবং উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী।