ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ ছিলো স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ। সেই লক্ষ বাস্তবায়ন করতে সংবিধানে থাকা স্বৈরতন্ত্রের সুযোগগুলো রহিত করতে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছিলো। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত পথ মাড়িয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির প্রতি প্রত্যাশা ছিলো, বিএনপি ছাত্র-জনতার রক্তেন প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদন করিয়ে নেবে। কিন্তু জনতার রক্তের সাথে বেইনসাফী করে বিএনপি স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধক হতে পারে এমন সকল অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে বিএনপিও পতিত স্বৈরতন্ত্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করলো।
আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল ) এক বিবৃতিতে তিনি উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠা ও তাদের প্রথম মেয়াদের ক্ষমতা সংহত করেছে গণভোটের মাধ্যমে। এবারের গণভোটের সিদ্ধান্তও বিএনপিকে সাথে নিয়েই করা হয়েছে। জনাব তারেক রহমান নিজেও গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। সেই বিএনপি এখন অতিসাংবিধানিকতা দেখিয়ে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করছে। এরচেয়ে হতাশার আর কী হতে পারে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দুর্বলতার সুযোগে পতিত স্বৈরচার জাতির ওপরে নির্মম নির্যাতন করেছে। মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করে জারি করা অধ্যাদেশও বিএনপি অনুমোদনের জন্য সংসদে না তুলে পদ্ধতিগত বাতিল করে দিচ্ছে। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশও বিলোপ করার পথে হাটছে বিএনপি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের দুর্বলতার সুযোগে পতিত স্বৈরাচার দেশটা ফোকলা করে ফেলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা অধ্যাদেশও লোপ করছে বিএনপি। আর বিচারবিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সরাসরি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আমরা মনে করি, বিএনপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাথে স্পষ্টত বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। তথাপিও, বিএনপি নিজেও যেহেতু পতিত স্বৈরতন্ত্রের নিপীড়নের শিকার তাই আবারো সরকারকে অনুরোধ করবো, জনতার রক্তের সাথে বেইমানি করবেন না। স্বৈরতন্ত্রকে স্থায়ী বিলোপে করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের ব্যবস্থা করুন।