প্রবাসীদের বিপদে আপদে পাশে পাচ্ছেন না প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে। বেশ কয়েকবার সময় দিয়েও প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি তিনি।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আমরা সচেতন রেমিট্যান্স যোদ্ধা নামের এক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেশ কয়েকজন প্রবাসী। এসময় প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে ১৯ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়। তাদের মতে সরকার আন্তরিক হলে ১৯ দিনেই প্রবাসীদের এসব দাবি বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা রাখে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাইফুল ইসলাম, মহিউদ্দিন রনি, জাহাঙ্গীর সরকার, আল মামুন শিপন, কাউসার, ইলিয়াস হোসেন, ফখরুল ইসলাম, আবদুল আল মামুন, সম্রাট, আবদুর রহিম। এরা সকলে মধ্য প্রাচ্যে ও ইউরোপ প্রবাসী। প্রত্যোকে তাদের নিজ নিজ সমস্যা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ঢাকাস্থ ইমিগ্রেশন পুলিশের অদক্ষতার কারণেও প্রবাসীরা ক্ষতির শিকার হোন। উদাহরণ স্বরুপ, সম্প্রতি জাপানে যাবার ভিসা ইমিগ্রেশন পুলিশ বুঝতে না পারায় ৪ জন প্রবাসীর ফ্লাইট মিস হয়। এছাড়া দূতাবাসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ পান না তারা। বিপদে পড়লে তাদের সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায় না। পাসপোর্ট করতে দালাল ধরতে হয়। দেশে রেখে আসা পরিবারের নিরাপত্তা পান না। বিশেষ আইন করে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের নাগরিক সুবিধা দেবার আহবান জানান তারা। তাদের ১৯ দফা দাবি গুলো হচ্ছে।
১. পাসপোর্ট সরবরাহ : বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য স্বল্প সময়ে ও হয়রানিমুক্ত পাসপোর্ট সরবরাহ করতে হবে।
২. নিম্ন সুদে ঋণ : ভিসার কপি দিয়ে জামানত ছাড়া, স্বল্প সুদে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকা ঋণ দিতে হবে।
৩. দালালমুক্ত মেডিকেল সার্ভিস : বিদেশগামী যাত্রীদের মেডিকেল পরীক্ষায় দালালমুক্ত ও সঠিক রিপোর্টের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৪. বিমানবন্দরের সম্মান : যাত্রীদের সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করে বিদেশে আসা-যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৫. বাংলাদেশি মিশন সেবা : বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে প্রবাসীদের সম্মানজনক ও দ্রুত সেবা দিতে হবে।
৬. বেতন ও সুযোগ সুবিধা পর্যবেক্ষণ : প্রবাসী কর্মীদের কোম্পানিতে বেতন, আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছে কিনা তা বাংলাদেশি মিশনগুলোকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
৭. ভিসা যাচাই : বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার জন্য ভিসা পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির যাচাই-বাছাই করতে হবে।
৮. ব্যয় নিয়ন্ত্রণ : সরকার কর্তৃক নির্ধারিত খরচের মধ্যে কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৯. টিকিট মূল্য নিয়ন্ত্রণ : সব এয়ারলাইন্সের টিকিট মূল্য গন্তব্যস্থান অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
১০. বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ : প্রবাসীদের জন্য সব বিভাগীয় শহরে একটি করে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করতে হবে।
১১. সম্পদ নিরাপত্তা : প্রবাসীদের পরিবারের সম্পদ ও জান-মালের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১২. দক্ষ কর্মী পাঠানো : বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে তাদেরকে কেনো কাজের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী পাঠাতে হবে।
১৩. জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ : সব প্রবাসীকে তাদের কর্মরত দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করতে হবে।
১৪. পেনশন সুবিধা : যারা ১০ বছরের বেশি প্রবাসে কর্মরত রয়েছেন, তাদেরকে পেনশনের আওতায় আনতে হবে।
১৫. অসুস্থ কর্মী ও মরদেহের খরচ : অসুস্থ কর্মী ও প্রবাসীর মরদেহ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সব খরচ নিয়োগকর্তাকে প্রদান করতে বাধ্য করতে হবে, অন্যথায় বাংলাদেশ সরকারকে নিজ খরচে এই কার্য সম্পাদন করতে হবে।
১৬. গণশুনানি আয়োজন : প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে বাংলাদেশি মিশনগুলো প্রতি ৩ মাস পর পর গণশুনানির আয়োজন করতে হবে।
১৭. বৈধতা নিশ্চিতকরণ : বিভিন্ন দেশে যে সব প্রবাসীরা অবৈধ হয়ে আছেন, তাদেরকে বৈধ করার চেষ্টা চালাতে হবে, অন্যথায় তাদেরকে দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৮. অবৈধ পথে কর্মী যাওয়া বন্ধ : যে সব দেশে বাংলাদেশ সরকার কর্মী পাঠায় না, সে সব দেশে অবৈধ পথে ঝুঁকি নিয়ে কর্মী যাওয়া বন্ধ করতে হবে।
১৯. মতবিনিময় : অভিবাসন খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতি মাসে অন্তত একবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বা সচিবের মতবিনিময় করতে হবে।