অবশেষে ৯২ বছর বয়সে বিদায় নিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় সঙ্গীতশিল্পীকে ভর্তি করানোর পর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকেই উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছিলেন আশা ভোসলের অনুরাগীরা। আচমকাই আসে তাঁর অসুস্থতার খবর।
এদিন সন্ধ্যাবেলা আচমকাই শরীরে অস্বস্তি শুরু হয় শিল্পীর। নিজের অস্বস্তির কথা এক গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন তিনি। তখনই হৃদ্ রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এমনটাই খবর ছড়ায় হাসপাতাল সূত্রে।
যদিও পরে এক্স হ্যান্ডেলে তাঁর নাতনি জ়না ভোঁসলে লেখেন, “আমার ঠাকুরমা খুবই ক্লান্ত। ফুসফুসেও সংক্রমণ হয়েছে। তাই ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালে। সবাইকে অনুরোধ, দয়া করে আপাতত আমাদের একা ছেড়ে দিন। আমাদের গোপনীয়তাকে সম্মান দিন।”
শিল্পীর পরিবার ও অনুরাগীরা আশা করেছিলেন, খুব তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। আশা ভোসলের মৃত্যুতে সঙ্গীতদুনিয়ার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অজস্র চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন এবং বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এ ছাড়া, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলির মধ্যে অন্যতম, ‘দিল তো পাগল হ্যায়, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘তুমসে মিলকে’ ইত্যাদি।
আশা ভোসলের অসুস্থতায় আরোগ্য কামনা করে একটি পোস্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, “আশা ভোসলেজি হাসপাতালে শুনে গভীর ভাবে চিন্তিত। ওঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।” শিল্পীর প্রয়াণে শোকের ছায়া ভারতীয় সঙ্গীতজগতে।