১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পহেলা বৈশাখে সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে পহেলা বৈশাখের সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশের সব অনুষ্ঠানস্থলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না।

বৈশাখী শোভাযাত্রা-র নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি থাকবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না, তবে হাতে বহন করা যাবে। মিছিল শুরু হওয়ার পর মাঝপথে কেউ যোগ দিতে পারবেন না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি, গ্যাস বেলুন এবং ভুভুজেলা বাঁশি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড, সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার ও আর্চওয়ে বসানো হবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। রমনা লেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ডুবুরি দল মোতায়েন থাকবে।

এছাড়া পহেলা বৈশাখের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

সাধারণ জনগণকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, বাঙালির এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।