ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটশাসিত ২১টি রাজ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালুর ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি আল্লামা আরশাদ মাদানী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুসলমানরা অনেক বিষয়ে ছাড় দিতে পারলেও ধর্ম ও ঈমানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করবে না।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর জানিয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে আরশাদ মাদানী প্রশ্ন তোলেন, ‘দেশ সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে, নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় এজেন্ডা অনুযায়ী?’ তিনি বলেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার যে অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, ইউসিসি তার পরিপন্থি।
আল্লামা মাদানী আরও বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন সরাসরি পবিত্র কোরআন ও হাদিসভিত্তিক। শরিয়তবিরোধী কোনো আইন মুসলিম সমাজ মেনে নেবে না। এটি কেবল অস্তিত্বের প্রশ্ন নয়, বরং সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক ধর্মীয় অধিকার রক্ষার লড়াই। যাঁরা ধর্মীয় আইন মানতে চান না তাঁদের জন্য ইতোমধ্যে বিকল্প দেওয়ানি আইন থাকার পরেও সবার ওপর বাধ্যতামূলক ইউসিসি চাপিয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সরকারের ‘এক দেশ, এক আইন’ স্লোগানের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে এখনো আইনের প্রয়োগে ভিন্নতা রয়েছে, এমনকি গরু জবাইসংক্রান্ত আইনেও রাজ্যভেদে তারতম্য দেখা যায়। তাছাড়া তফসিলি উপজাতিদের যদি ইউসিসি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে, তবে মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকারকেও সম্মান জানানো উচিত।
ইউসিসির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টে জমিয়তের করা মামলায় ইতোমধ্যে ছয়টি শুনানি হয়েছে, যেখানে সংগঠনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবালসহ বিশিষ্ট আইনজীবীরা অংশ নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা দেন যে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এনডিএশাসিত ২১টি রাজ্যে ইউসিসি বাস্তবায়ন করা হবে। ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার ও দত্তক নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে একক আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠাই এই বিধির লক্ষ্য, যা ইতোমধ্যে উত্তরাখণ্ডে কার্যকর করা হয়েছে।