২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গজনি প্রদেশে ২৬টি নতুন টেলিযোগাযোগ প্রকল্প চালু করল আফগান সরকার

ইমারাতে ইসলামিয়ার গজনি প্রদেশে টেলিযোগাযোগ সেবার পরিধি বিস্তারের লক্ষ্যে সালাম টেলিকম নেটওয়ার্কের ২৬টি নতুন প্রকল্প চালু করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানীসহ ১৪টি জেলায় এসব প্রকল্প সক্রিয় হওয়ায় মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবার মানে দৃশ্যমান উন্নতি এসেছে। এর ফলে গজনির হাজার হাজার বাসিন্দা নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সুবিধার আওতায় আসছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে মোট ৫৬০টি টেলিযোগাযোগ সাইট স্থাপনের একটি জাতীয় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি সাইট সম্পন্ন হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ আলোকজাই হাফিযাহুল্লাহ জানান, পূর্বে যেখানে কোনো টেলিযোগাযোগ সুবিধা ছিল না, এমন এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সাইটগুলো স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গজনি প্রদেশে বরাদ্দপ্রাপ্ত ২৬টি সাইট ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং সেগুলো এখন পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সারা দেশে ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের সেবা থেকে চতুর্থ প্রজন্মের সেবায় রূপান্তরের কাজ চলছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক সময় দেশে চতুর্থ প্রজন্মের সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ লাখ, যা বর্তমানে বেড়ে ৭০ লাখে পৌঁছেছে। সেবার মান উন্নয়ন ও জনসাধারণের চাহিদা পূরণ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে গজনি প্রদেশে প্রায় ১৫০টি নতুন টেলিযোগাযোগ সাইট চালু হয়েছে। পাশাপাশি অতীতের সংঘর্ষে ধ্বংস হওয়া ১৫টি সাইট পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। প্রদেশজুড়ে প্রায় ১৩৫টি সাইটে সেবা উন্নীত করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম থেকে চতুর্থ প্রজন্মে রূপান্তর সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন সাইট চালুর ফলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। গজনির বাসিন্দা খাইরুল্লাহ বলেন, আগে একটি ফোনকল করতে হলেও উঁচু জায়গায় উঠতে হতো। এখন সাইটগুলো চালু হওয়ায় যোগাযোগ সহজ হয়েছে এবং ভোগান্তি কমেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এখনও কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় সেবা পৌঁছেনি। আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, কিছু এলাকায় এখনো ফোন কাজ করে না এবং সেসব স্থানে নতুন অ্যান্টেনা স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, গজনি প্রদেশে যেখানে এখনো টেলিযোগাযোগ সুবিধা নেই অথবা সীমিত রয়েছে, সেখানে আরও ২৪টি নতুন সাইট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রদেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র : আল-ইমারাহ