ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার নিহত হওয়ার পর এ ঘোষণা আসে।
আইআরজিসি জানায়, তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ চালিয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, শনিবার তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। একই হামলায় আইআরজিসি প্রধানও নিহত হন।
আইআরজিসি বলেছে, তাদের এই অভিযান ‘দখলকৃত অঞ্চল ও মার্কিন সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোকে’ লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর সদর দপ্তর টেল নফ ঘাঁটি এবং একটি বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সেও হামলার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘তারা যেন এটা না করে। কারণ করলে আমরা এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’
রোববার বিকেলে তেহরানের আকাশে বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে, যখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায় তারা ‘তেহরানের কেন্দ্রস্থল’ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম খামেনিকে “শহীদ” হিসেবে উল্লেখ করে। শনিবার সকালে তেহরান ও অন্যান্য শহরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন। হামলায় তার মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। ইরান সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
খামেনির মৃত্যু ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ঊর্ধ্বে অবস্থান করতেন এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ আইআরজিসির ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখতেন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীনভাবে প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেম সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে ইরানি গণমাধ্যম খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানি এবং আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে।
শামখানি এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন; তখন তার মৃত্যুর খবর এলেও পরে তিনি বেঁচে আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়। সম্প্রতি তাকে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে সাম্প্রতিক ঘণ্টাগুলোতে তারা ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ৩০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমান বাহিনীর ডজনখানেক যুদ্ধবিমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে।