১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩৭ বছরের শিক্ষকতা শেষে শিক্ষকের রাজসিক বিদায়

পটুয়াখালীতে দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত এক প্রিয় শিক্ষককে ঘোড়ায় চড়িয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ও রাজসিক বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা। এ দৃশ্য দেখতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় করেন শত শত মানুষ, যা মুহূর্তেই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) ছিল পটুয়াখালীর জৈনকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার শিক্ষক ফোরকান তালুকদারের শেষ কর্মদিবস। টানা ৩৭ বছরের নিষ্ঠা, সততা ও ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার পর এদিন তিনি অবসরে যান।

কর্মজীবনের শেষ দিনে শিক্ষক ফোরকান তালুকদারকে ঘোড়ায় চড়িয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিদায় জানানো হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘোড়ায় করেই বাড়ি পৌঁছে দেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘তারুণ্য’ নামের একটি সংগঠন এই ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উল্লেখ্য ফোরকান তালুকদার নিজেও এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

বশির উদ্দিন নামে বিদ্যালয়টির এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, ফোরকান স্যার শুধু ক্লাসেই আমাদের পড়াতেন না, বিকেলে সবার বাড়িতে গিয়েও খোঁজ নিতেন ঠিকমতো পড়াশোনা চলছে কি না। তিনি ছিলেন আমাদের প্রিয় শিক্ষক। এমন একজন শিক্ষক পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের। তার তুলনা শুধু তিনি নিজেই। স্যারের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে আমাদের এমন আয়োজন।

বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক রইছ উদ্দিন বলেন, ফোরকান স্যার এখানকারই ছাত্র ছিলেন, আবার এখানকারই শিক্ষক, এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার অনেক বছরের সম্পর্ক। তিনি খুব সৎ মানুষ। সহকর্মী হিসেবে তাকে পেয়ে আমরা গর্বিত। কিন্তু তার বিদায় আমাদের হৃদয়কে ব্যথিত করে।

বিদায়ী শিক্ষক ফোরকান তালুকদার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, জীবনে কখনো ভাবিনি আমার জন্য এমন আয়োজন করা হবে। আজ নিজেকে স্বার্থক মনে হচ্ছে। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। যারা এত সুন্দর আয়োজন করেছেন তাদের জন্য আমি দোয়া করি।

এ ব্যতিক্রমী আয়োজন শুধু একজন শিক্ষকের বিদায়কেই স্মরণীয় করে রাখেনি, বরং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গভীর সম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।