ভারতে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদ পদ্ধতি ‘তালাক–ই–হাসান’ নিষিদ্ধ নয় এবং এটি একটি বৈধ প্রক্রিয়া বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আসামের গৌহাটি হাইকোর্ট। আসামের এক মুসলিম ব্যক্তির বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনসংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরীর একক বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদালত জানান, আবেদনকারী যে পদ্ধতিতে ‘তালাক–ই–হাসান’ সম্পন্ন করেছেন, তা শরিয়াহসম্মত ও বৈধ তালাকের একটি রূপ। ভারতে এই প্রক্রিয়ার ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই।
তালাক–ই–হাসান অনুযায়ী, স্বামী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে (এক তুহুর বা শুচিতার মেয়াদ) মোট তিনবার ‘তালাক’ উচ্চারণ করেন। প্রতিটি উচ্চারণের মধ্যবর্তী সময়টিতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং পুনর্মিলনের সুযোগ থাকে। ফলে এটি তালাক–ই–বিদআত বা এক বৈঠকে দেওয়া তাৎক্ষণিক ‘তিন তালাক’ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক ও দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করেছিল।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, আবেদনকারী ব্যক্তির ২০১৬ সালে বিয়ে হয় এবং পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৮ সালে তাঁর স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি শরিয়াহর নিয়ম মেনে ২০২৬ সালের ২২ মার্চ, ২৬ এপ্রিল এবং ২৭ মে—এই তিন দফায় পৃথকভাবে তালাক উচ্চারণ করেন। এরপর তিনি পুরোনো আইনের আওতায় এই তালাক নিবন্ধনের আবেদন করেন।
শুনানিতে আসাম রাজ্য সরকার আদালতকে জানায়, পুরোনো ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইনটি বাতিল করা হয়েছে এবং এর আওতাধীন পদগুলোও বর্তমানে বিলুপ্ত। ফলে পুরোনো বিধিতে এই তালাক নিবন্ধনের সুযোগ নেই।
সব দিক পর্যালোচনা শেষে আদালত আবেদনকারীকে নির্দেশ দেন, পুরোনো আইনে না হলেও ২০২৪ সালের ‘আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নিবন্ধন আইন’–এর অধীনে বারপেটার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে গিয়ে তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদ নথিভুক্ত করতে হবে।
এদিকে শুনানিকালে আদালতে নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও ওই ব্যক্তির স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে স্ত্রীর আইনগত অধিকার বাতিল হয়ে যাবে না। স্ত্রী চাইলে ভবিষ্যতে উপযুক্ত আইনি ফোরামে এই তালাক প্রক্রিয়ার বৈধতা বা কার্যকারিতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।