৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বেইজিংয়ের আকাশচুম্বী ভবনে বিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ আকাশচুম্বী ভবন সিটিক টাওয়ারে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জানানো হয়, বিমানটির পাইলট ছিলেন ৬৬ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা লিউ, যিনি অতীতে একাধিকবার আত্মহত্যার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই আসনের একটি সানওয়ার্ড SA60L অরোরা বিমান কঠোর বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে ১০৯ তলা ও ৫২৮ মিটার উঁচু সিটিক টাওয়ারে আঘাত হানে। এতে পাইলট নিহত হন এবং আরও ১৩ জন আহত হন। আহতদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়; একজন ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

চাওইয়াং জেলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, লিউ প্রথমে উত্তর-পূর্ব বেইজিংয়ের একটি সাধারণ বিমানবন্দর থেকে একজন যাত্রীকে নিয়ে উড্ডয়ন করেন। পরে তিনি একাই বিমান চালিয়ে নির্ধারিত ফ্লাইটপথ থেকে সরে যান। বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিমানটি রাজধানীর কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় অবস্থিত সিটিক টাওয়ারে আছড়ে পড়ে।

তদন্তে জানা গেছে, ২০২১ সালে পাইলটের লাইসেন্স পাওয়া লিউ ছিলেন স্বনিযুক্ত, তালাকপ্রাপ্ত এবং একাকী জীবনযাপনকারী। তার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে একাধিকবার জীবন শেষ করার ইচ্ছার উল্লেখ পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা ও উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ভবন থেকে কাচের টুকরো ও বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচের সড়কে ছিটকে পড়ে, এতে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার পর বেইজিংয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ও বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও প্রথমদিকে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি; পরে প্রায় এক দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করে চীনা কর্তৃপক্ষ।

Home R3