৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রাণনাশের আশঙ্কায় বাঙ্কারে দিন কাটাচ্ছেন পুতিন!

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ায় ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মাটির নিচের সুরক্ষিত বাঙ্কারে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থানের ভয়ে পুতিন এখন জনসমাগম থেকে দূরে অবস্থান করছেন। তিনি রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে একটি সুরক্ষিত বাঙ্কারে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও দাবি করা হয়, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় থেকেই পুতিন নিজেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা এবং রাশিয়ার ভেতরে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিনের কাছাকাছি কর্মরত রাঁধুনি, আলোকচিত্রী ও দেহরক্ষীদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো পুতিনকে জনসমক্ষে সক্রিয় দেখাতে প্রায়ই পূর্বে ধারণ করা ভিডিও প্রচার করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ঠেকাতে মস্কোর ইন্টারনেট পরিষেবাও মাঝে মাঝে সীমিত করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কয়েকজন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রুশ প্রেসিডেন্টের এই জনবিচ্ছিন্নতা ও নিরাপত্তা নির্ভরতা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। জনগণ ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

সূত্র: এনডিটিভি, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস