৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্পের আদেশ খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে জারি করা নির্বাহী আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলায় ৬-৩ ভোটে আদালত এ রায় দেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রচলিত সেই সাংবিধানিক ব্যাখ্যাই বহাল থাকল, যার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সবাই নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কেগান, অ্যামি কোনি ব্যারেট ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের পক্ষে রায় দেন। বিচারপতি ব্রেট কাভানাও পৃথক মতামতে বলেন, আদেশটি ফেডারেল আইনও লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও নিল গরসাচ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

রায়ে প্রধান বিচারপতি রবার্টস বলেন, নাগরিকত্ব একটি মৌলিক অধিকার, যা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করে। চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই অধিকার যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রসারিত করা হয়েছে এবং আদালত সেই ঐতিহ্য বহাল রেখেছে।

এর মাধ্যমে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত উদ্যোগ বাতিল হলো। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিনই তিনি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।

ট্রাম্পের ওই আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানরত বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। তবে ফেডারেল পর্যায়ের আদালতগুলো শুরু থেকেই আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়, ফলে এটি বাস্তবায়ন হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, দেশে জন্মগ্রহণকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের আওতাভুক্ত সকল ব্যক্তি নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। ১৮৯৮ সালের এক ঐতিহাসিক রায়েও সুপ্রিম কোর্ট এই নীতি বহাল রাখে।

রায়ের বিরোধিতায় বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের ব্যাখ্যা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয় এবং আদালত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করেছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যাখ্যা অবৈধ অভিবাসন ও তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’কে উৎসাহিত করে। তবে আদালত সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো বহাল রেখেছে।

Home R3