১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গরুর মাংস কার জন্য কতটুকু নিরাপদ? জেনে নিন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ!

অনেকে মনে করেন গরুর মাংস খেলেই স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। কারণ এতে কোলেস্টেরল ও চর্বি থাকে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক নিয়মে খেলে গরুর মাংস ক্ষতিকর নয়—বরং এতে থাকা প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গরুর মাংসে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন B2, B3, B6 ও B12। এসব উপাদান পেশি গঠন, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, শক্তি উৎপাদন, ত্বক-চুল-নখের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা তার ওজনের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে ৫০ কেজি ওজনের একজন ব্যক্তির দৈনিক প্রায় ৫০ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। তবে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ অর্ধেক পর্যন্ত কমিয়ে আনতে হয়। অন্যদিকে গর্ভবতী নারী বা মাসিক চলাকালীন অবস্থায় প্রোটিনের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, দিনে ৭০ গ্রামের বেশি এবং সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের বেশি প্রোটিন সাধারণভাবে গ্রহণ না করাই ভালো।

গরুর মাংস খাওয়ার পরিমাণ নিয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট নির্দেশনা। পুষ্টিবিদদের মতে, সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুই দিন গরুর মাংস খাওয়া নিরাপদ। প্রতিবার ২–৩ টুকরা (প্রায় ১৬–২৬ গ্রাম রান্না করা মাংস) যথেষ্ট। অর্থাৎ সপ্তাহে মোটামুটি ১৫০ গ্রাম গরুর মাংস নিরাপদ সীমা হিসেবে ধরা যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও কম হতে পারে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে শরীরে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ–২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা, কিডনি জটিলতা এবং এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

তবে গরুর মাংস কীভাবে খাওয়া হচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। রান্নার আগে মাংসের চর্বি ভালোভাবে কেটে ফেলতে হবে এবং ছোট ছোট টুকরো করে রান্না করলে চর্বির পরিমাণ কম থাকে। প্রথমে সেদ্ধ করে সেই পানি ফেলে দিলে অতিরিক্ত চর্বি বের হয়ে যায়। এরপর অল্প তেল ব্যবহার করে রান্না করা উচিত এবং ঘি, মাখন বা ডালডা এড়িয়ে চলা ভালো। লেবুর রস, টক দই বা ভিনেগার ব্যবহার করলে মাংস আরও স্বাস্থ্যকর হয়। সবজি যেমন লাউ, কুমড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপি বা পেঁপে দিয়ে রান্না করলে তা আরও উপকারী হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরুর মাংস নিয়ে প্রচলিত “অতিরিক্ত কোলেস্টেরল” ধারণা অনেকাংশে অতিরঞ্জিত। কারণ পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—গরুর মাংস সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, সঠিক রান্না এবং ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।