২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয়

কওমি সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন ও স্বকীয়তা রক্ষার দাবি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের

কওমি সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন ও স্বকীয়তা রক্ষার দাবি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে কওমি সনদের দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা একটি বিশেষায়িত শিক্ষা। আধুনিকায়নের নামে যারা পরিমার্জন করতে চায়, তারা মূলত এ শিক্ষাকে একটি সনদ সর্বস্ব শিক্ষা বানাতে চায়। কওমি শিক্ষা থেকে হাফেজ আলেমগণের বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানে বিশাল সুযোগ রয়েছে যা অন্য কোন শিক্ষা ব্যবস্থায় নাই।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দেওনা দাওয়াতুল হক মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সংগঠনের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, কওমি শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হলে একদিকে শিক্ষার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় শিক্ষার প্রধান ধারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এখান থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত হাফেজ ও আলেমদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে এবং রেমিটেন্স অর্জনেও তাদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, নবী-রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনচরিত নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

কওমি শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলোতে অসংখ্য শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, যা সমাজের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিশেষ সহায়ক। তিনি কওমি মাদ্রাসায় প্রদত্ত দান ও অনুদানকে আয়করমুক্ত রাখারও দাবি জানান।

সম্মেলনে বক্তারা অপসংস্কৃতি রোধ এবং ইসলামী সংস্কৃতি বিস্তারের স্বার্থে সংবিধানের ২৩ ও ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি জানান। পাশাপাশি ওয়াকফ আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিল এবং শরিয়াহসম্মত ওয়াকফ আইন প্রণয়ন, রেজিস্ট্রেশন খরচ হ্রাস ও মুসলমানদের পারিবারিক বিষয়ে স্বতন্ত্র শরিয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের সাবেক মন্ত্রী আওলাদে রাসূল মাওলানা মাসউদ মাদানী, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শিব্বির আহমদ রশিদ(কিশোরগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল বাসেত খান(সিরাজগঞ্জ), মাওলানা লুৎফর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজ‌ওয়ান রফিকী,মাওলানা আলী আজম(বি,বাড়িয়া), মাওলানা মেরাজুল হক মাযহারী, মাওলানা দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ, এডভোকেট মতিউর রহমান ও মুফতি ইমরনুল বারী সিরাজী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী ও মুফতি নজরুল ইসলাম।