‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’ নামে ভারতে কোটাবিরোধী নতুন আন্দোলন শুরু হয়েছে। ভারতের কেন্দ্র সরকারকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে পাঁচ দফা দাবিতে এই আন্দোলন ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিশাল জনসমাগমের পর এই আন্দোলনের ডাক দেয় কোটাবিরোধীরা। আন্দোলনকারীরা সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম-ভিত্তিক প্রচার অভিযানে নেমেছিল এবং তাদের পেজের ফলোয়ারদের বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। ইনস্টাগ্রামে পেজটির প্রায় ৫৬ লাখ ফলোয়ার রয়েছে। দিল্লি পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করলেও আন্দোলন শেষ হয়নি বলে তারা জানিয়েছে।
কোটাবিরোধীদের ৫ দফা দাবি হচ্ছে–
১. অর্থনৈতিক অবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও সৌদি-তুর্কি জোটে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে যা বলল ভারত
শিক্ষা, কোচিং, বৃত্তি এবং অন্যান্য খরচে সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে আর্থিক অবস্থাকে বিবেচনা করা উচিত। অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার সঙ্গে যুক্ত এক বিক্ষোভকারী বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, ‘আমাদের দাবি হলো কার সরকারি সহায়তা প্রয়োজন তা নির্ধারণের সময় অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিবেচনা করতে হবে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করা উচিত।’
২. কোটার ভেতরে কোটা
কোটাব্যবস্থার বিশদ পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের মতে, কোটার ক্যাটাগরির ভেতরে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীগুলোর কাছে সবসময় সুবিধা পৌঁছায় না। পিটিআইকে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে এই বিষয়টি তুলে ধরছি। সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বর্তমান ব্যবস্থা তার উদ্দীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে কিনা এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছাচ্ছে কিনা।’
৩. কোটার ওপর শ্বেতপত্র
আরেকটি দাবি হলো—গত আট দশকে কোটাব্যবস্থা এবং এর প্রভাব পর্যালোচনা করে সরকারের একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। বিহারের মুসাহার সম্প্রদায়ের উদাহরণ টেনে আন্দোলনকারীরা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কম হওয়ার কারণে এই গোষ্ঠীটি কোটাব্যবস্থা থেকে পর্যাপ্ত সুবিধা পায়নি।
৪. উচ্চশিক্ষায় ন্যূনতম নম্বর
আরেকটি প্রধান দাবি হলো–প্রিমিয়ার ইনস্টিটিউটসহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম নম্বর বজায় রাখা। বার্তা সংস্থা এএনআই-কে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘মেধার সাথে আপস করে আপনি উন্নত ভারতের স্বপ্ন বিক্রি করতে পারেন না। যদি যোগ্য ৫০ শতাংশ তরুণ-তরুণী আইআইটি, আইআইএম বা উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে না পারে, তবে আপনার দক্ষতা সেখানেই ৫০ শতাংশ কমে গেল।’
৫. ইডব্লিউএস সুবিধা সম্প্রসারণ
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণিতে (ইডব্লিউএস) থাকা ব্যক্তিদের জন্য আরও বড় পরিসরে সুযোগ-সুবিধা দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা।