ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অধীনে থাকা ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালুর প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তিনি প্রশ্ন করেন, দেশ সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে, নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শিক এজেন্ডা অনুযায়ী চলবে। মাদানি বলেন, শরিয়াহর বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো আইন মুসলমানরা মেনে নিতে পারে না এবং ইউসিসির মাধ্যমে মুসলমানদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ২০২৯ সালের আগেই এনডিএ শাসিত ২১টি রাজ্যে ইউসিসি চালু করা হবে। কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যে এটি চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর এই ঘোষণাকে এনডিএর শরিকরা সমর্থন করলেও বিরোধী দল ও কয়েকটি মুসলিম সংগঠন এর সমালোচনা করেছে।
আরশাদ মাদানি বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন কোরআন ও হাদিসভিত্তিক। যারা ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন অনুসরণ করতে চান না, তাদের জন্য দেশে বিকল্প দেওয়ানি আইন রয়েছে। তাই বাধ্যতামূলক ইউসিসির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ইউসিসির বিরুদ্ধে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের করা মামলার কথাও উল্লেখ করেন মাদানি। তিনি জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়টি শুনানি হয়েছে এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবালসহ অন্য আইনজীবীরা সংগঠনের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও তফসিলি উপজাতিদের মতো তাদেরও কেন ইউসিসি থেকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মাদানির দাবি, ইউসিসি নিয়ে বিতর্ক শুধু মুসলিম ব্যক্তিগত আইন নয়, বরং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সাংবিধানিক কাঠামো ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
ইতোমধ্যে ভারতের কয়েকটি রাজ্য ইউসিসি-সংক্রান্ত আইন গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাখণ্ড প্রথম রাজ্য হিসেবে ইউসিসি আইন পাস ও কার্যকর করেছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর, গ্রাউন্ড নিউজ