১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইউক্রেনে রক্তক্ষয়ী জুন, আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে জুলাই

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জুন মাসের রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর চলতি জুলাই মাস আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জুন মাসে রাশিয়াকে চাপের মুখে ফেলতে একটি কৌশল গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। শুরুতে এসব হামলায় রাশিয়ার ক্ষতি হলেও পরে তা উল্টো ইউক্রেনের জন্য নেতিবাচক হয়ে দাঁড়ায়। পাল্টা হিসেবে রাশিয়া তীব্র হামলা শুরু করলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২৯৩ জন ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। চলতি বছরের এ পর্যন্ত বেসামরিক নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৪০০ জনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি।

এদিকে জুলাই মাসের মাঝামাঝিতেই নিহতের সংখ্যা ২৪০ জনে পৌঁছেছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই মাসে প্রাণহানি নতুন রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল জানিয়েছেন, জনবহুল শহরে ভারী অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দনিপ্রো, ওদেসা ও রাজধানী কিয়েভে দূরপাল্লার রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাই প্রাণহানির প্রধান কারণ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দূরপাল্লার অস্ত্রের আঘাতে হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে স্বল্প-পাল্লার ড্রোন হামলায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দৈনন্দিন কাজের সময়ও তারা হামলার শিকার হচ্ছেন।

এ পরিস্থিতিতে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছে ইউক্রেন। আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

Home R3