ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শ্রম আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করায় পর্তুগালের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইউরোপীয় কমিশন। কমিশনের অভিযোগ, শ্রমিকদের জন্য স্বচ্ছ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশটির শ্রম আইন ইইউর নীতিমালা মেনে চলছে না।
বুধবার (৮ জুলাই) পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম দ্য রেসিডেন্টের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ইউরোপীয় কমিশনের জুলাই মাসের ইনফ্রিঞ্জমেন্ট প্যাকেজের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমন সময় এটি করা হলো, যখন পর্তুগাল সরকার শ্রম আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে দেশটির শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, প্রস্তাবিত সংস্কারের ফলে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অর্জিত অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগাল ছাড়াও চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, আয়ারল্যান্ড, গ্রিস, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড ইইউর স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য কর্মপরিবেশ নির্দেশিকা পুরোপুরি জাতীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি।
এই নির্দেশিকার লক্ষ্য হলো, কর্মীরা যেন চাকরির শুরু থেকেই কর্মঘণ্টা, বেতন, চাকরির নিরাপত্তা এবং চুক্তির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সম্পর্কে স্পষ্ট ও সময়মতো তথ্য পান। একই সঙ্গে হঠাৎ কর্মসূচি পরিবর্তন, শেষ মুহূর্তে শিফট নির্ধারণ বা অনিশ্চিত কর্মঘণ্টার মতো অন্যায্য কর্মপরিস্থিতি থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়াও এর উদ্দেশ্য। এছাড়া চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের খরচ নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে।
পর্তুগালসহ আটটি দেশকে এখন দুই মাসের মধ্যে কমিশনের উদ্বেগের জবাব দিতে হবে এবং আইনের ঘাটতি দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। কমিশন জবাবে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী ধাপে আনুষ্ঠানিক মতামত পাঠাবে। এরপরও সমস্যার সমাধান না হলে বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচার আদালতে পাঠানো হতে পারে।
এদিকে, কয়েক সপ্তাহ আগেই ইউরোপীয় কমিশন জানায়, পর্তুগালসহ বিভিন্ন সদস্য দেশ বেতন স্বচ্ছতা নির্দেশিকা সঠিকভাবে জাতীয় আইনে বাস্তবায়ন করেছে কি না, সেটিও তারা পর্যালোচনা করছে। এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ৭ জুন।
এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হলো, একই ধরনের বা সমমূল্যের কাজের জন্য নারী ও পুরুষকে সমান বেতন নিশ্চিত করা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চাকরির বিজ্ঞাপন বা সাক্ষাৎকারের আগেই নিয়োগকর্তাকে বেতনের পরিসীমা বা প্রাথমিক বেতনের তথ্য জানাতে হবে। কর্মীরা চাইলে নিজের বেতন এবং একই ধরনের কাজে নিয়োজিত নারী ও পুরুষ সহকর্মীদের গড় বেতনের তথ্যও লিখিতভাবে জানতে পারবেন।
এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে নারী ও পুরুষের বেতনের পার্থক্য ৫ শতাংশের বেশি হলে, সেই প্রতিষ্ঠানকে তা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বেতন বৈষম্যের শিকার কর্মীরা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বেতন বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নে নারী ও পুরুষের বেতনের বৈষম্য কমানোর অন্যতম প্রধান বাধা। ইউরোস্ট্যাটের ২০২৪ সালের তথ্য বলছে, সমমূল্যের কাজ করলেও ইইউভুক্ত দেশগুলোতে নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১ শতাংশ কম আয় করেন।