১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লিবিয়া থেকে ঢাকায় ফিরেছেন ১৬৮ বাংলাদেশি

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ১৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে বুরাক এয়ারের ফ্লাইট নম্বর ইউজেড-২২২-এ করে ঢাকায় পৌঁছেছেন তারা।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেইজে এসব তথ্য জানিয়েছে, দেশে ফেরত পাঠানো ১৬৮ জনই ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধারের পর দীর্ঘদিন ধরে বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আইওএমের সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৬৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।

দূতাবাস জানিয়েছে, অনিয়মিত পথে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা অভিবাসীদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের যাত্রায় অনেকে প্রাণ হারান, নিখোঁজ হন, মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি হন অথবা বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক হন।

আটক হওয়ার পর অনেক অভিবাসীকে দীর্ঘ সময় ধরে ডিটেনশন সেন্টারের অমানবিক ও দুর্বিষহ পরিবেশে থাকতে হয়।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাস সবাইকে দালাল ও মানবপাচারকারীদের মিথ্যা প্রলোভন ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে অনিয়মিত পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

২০১১ সালে লিবিয়ায় বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে দেশটি ইউরোপমুখী অভিবাসীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত, সহিংসতা ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

এই যাত্রাপথে অনেক অভিবাসীকে মরুভূমি অতিক্রম এবং ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে প্রায়ই প্রাণহানি, নিখোঁজ এবং আটকের ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে ভূমধ্যসাগরে এক হাজার ৬৬৮ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ৩৫ জন৷

এনজিও এসওএস মেডিটেরানের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে যাত্রা করা অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষে আছেন বাংলাদেশিরা, যা মোট অভিবাসীর ২৬ শতাংশ। এরপর রয়েছেন ইরিত্রিয়ার ১৬ শতাংশ, সুদানের ১৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ শতাংশ এবং মিশরের ৯ শতাংশ নাগরিক।

সূত্র : ইনফোমাইগ্রেন্টস

Home R3