২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মঙ্গল শোভাযাত্রা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ঠেকাতে হেফাজতের হুঁশিয়ারি

আসন্ন পহেলা বৈশাখকে ঘিরে তথাকথিত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেছেন, এটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি, স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শামিল। তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আজ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আল্লামা সাজেদুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্যে আসন্ন পহেলা বৈশাখে সর্বজনগ্রাহ্য ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে পরিত্যক্ত সাম্প্রদায়িক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে।

আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপিত সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক। আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর।

তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচরিত ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হলে ওলামায়ে কেরাম চুপ করে বসে থাকবেন না। বরং বাংলা সনের প্রবর্তক মুসলমানদের স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই এদেশের জাতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্রকোরক হওয়াটাই ন্যায়সংগত।

হেফাজতের মহাসচিব বলেন, ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই এর নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়ার পাপেট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরে এদেশের হিন্দুত্ববাদী কালচারাল সেক্যুলার ফ্যাসিস্টরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে পূর্বের ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম পাল্টে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রেখে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার কালচারাল ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ উৎসবের আদি ও আসল নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের সরকার চলে যাওয়ায় সেই কালচারাল ফ্যাসিস্টরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে বলে তাদের ধারণা। এরাই অতীতে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মরহুম খালেদা জিয়ার ‘অশুভ মূর্তি’ বানিয়ে নোংরা রাজনীতি করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানোর ক্ষেত্রে তারা কোনো বিরোধিতা বা আপত্তি করেননি। কারণ হেফাজতে ইসলাম সাম্প্রদায়িকতা লালন করে না। কিন্তু সেই ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী ও আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে যারা আবারও সুযোগ করে দিতে চাইবে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ।