২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজনীতি

 ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দিয়ে আর্থিকখাতে অরাজকতার সূচনা করা হলো : ইসলামী আন্দোলন

 ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দিয়ে আর্থিকখাতে অরাজকতার সূচনা করা হলো : ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, গতকাল মব সৃষ্টি করে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং সরকার তার নিয়োগ বাতিল করে এমন একজনকে নিয়োগ দেয় যার অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনাও নাই, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাও নাই। নতুন গভর্নর একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। গত ডিসেম্বরেই তার মালিকানাধীন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের’ ৮৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এমন একজন ব্যক্তিকে গভর্নর নিয়োগ করে আর্থিকখাতকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেয়া হলো। দেশের আর্থিকখাত যখন সংস্কারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তখন এমন অবিবেচক সিদ্ধান্ত একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। দেশের অর্থনীতি ও আর্থিকখাতের মূল নিয়ন্ত্রণ থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। আধুনিক বিশ্বের বহুমাত্রিক ও জটিল অর্থব্যবস্থায় এই ধরণের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ব্যাংক ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া উচিৎ। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকে আমলা বা বাস্তব অভিজ্ঞতাহীন একাডেমিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে দেশের আর্থিকখাতের সর্বনাশ করা হয়েছে। 

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আহসান এইচ মনসুর দায়িত্বগ্রহণ করেন। তিনি অর্থনীতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাকমাস্টার ও ওয়েস্টার্ন অন্টারিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রমান্বয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে বহুবছর আইএমএফে কাজ করেছেন। আধুনিক অর্থনীতি নিয়ে তার একাডেমিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিলো। তিনি যখন দায়িত্ব নেন তখন চরম অর্থনৈতিক চাপের সময়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া, টাকার বিনিময় হার নিয়ে অস্থিরতা এবং আমদানির চাপ সেসময় ছিল চরমে।

তিনি বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আহসান এইচ মনসুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। রিজার্ভ পুনরুদ্ধার, বিনিময় হারের অসামঞ্জস্য দূর এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ব্যাংকিং খাত সংস্কার শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে তিনি দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করেন, সুশাসন জোরদার করেন এবং খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠনের উদ্যোগ নেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে কোন ধরণের পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা উচিৎ না। দলীয় দৃষ্টিকোন থেকেও গভর্নর নিয়োগ দেয়া উচিৎ না বরং দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই গভর্নর নিয়োগ দেয়া উচিৎ।