বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকার দেশটির সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর চার বছর ধরে যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম আগেই স্থগিত ছিল, এবার একটি ডিক্রির মাধ্যমে সেগুলো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হলো।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির মন্ত্রিসভা ডিক্রিটি অনুমোদন করে। আল-কায়েদা ও আইএসআইএল (আইএস)–সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহ দমনে হিমশিম খাওয়া সরকারের ভিন্নমত দমন অভিযানের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এলো।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জারবো বলেন, কথিত ব্যাপক অনিয়ম ও বহু-দলীয় ব্যবস্থার অকার্যকারিতা কাটিয়ে রাষ্ট্রকে ‘পুনর্গঠন’ করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাজনৈতিক দলের কারণে দেশে বিভাজন বেড়েছে এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল হয়েছে।
ডিক্রি অনুযায়ী, সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন বিলুপ্ত করা হলো এবং এসব দলের সব সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে।
সামরিক অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল ১০০টির বেশি। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর এর মধ্যে ১৫টি দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিল।
বর্তমানে দেশটি পরিচালনা করছেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে। তিনি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ক্ষমতা দখল করেন। এর আট মাস আগেই আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রোচ মার্ক কাবোরেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল।
বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্ব সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে।
ভিন্নমত দমনের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে সরকার ইন্টারনেট সেবাদাতাদের নির্দেশ দেয় যেন বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইট ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি বুরকিনা ফাসো প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। এই দুই দেশও সামরিক সরকারের অধীনে রয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তারা একসঙ্গে ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ (এইএস) গঠন করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা