টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্রিকেট ও বিনোদন অঙ্গন। সম্প্রতি ইস্যুটি নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের মুসলিম অভিনেতা ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কামাল আর খান ওরফে কেআরকে।
গতকাল শুক্রবার রাতে মুম্বাই পুলিশ কেআরকেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে গুলি ছোড়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিন্ন দাবি তুলেছে নেটিজেনদের একটি বড় অংশ।
তাদের মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাবের সমালোচনা করায় কেআরকেকে টার্গেট করা হয়েছে। কারণ যে অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটি প্রায় এক সপ্তাহ আগের। কেউ এ নিয়ে কেআরকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও করেনি। কিন্তু যখনই তিনি ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে কথা বললেন তখনই প্রশাসনের নজরে চলে আসেন এবং আটক হন।
গ্রেপ্তারের আগে গত ২২ জানুয়ারি এক্সে (সাবেক টুইটার) কেআরকে লেখেন, ‘অবশেষে ক্রিকেটের জগৎও ধ্বংসের প্রান্তে এসে ঠেকেছে। বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমনকি পাকিস্তানও বহু বছর ধরে ভারতে খেলছে না!’
এই পোস্টের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। অনেকেই দাবি করছেন, টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভারতের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের জন্য বড় ধাক্কা। আর এই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরায় কেআরকেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ নেটিজেনদের।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সরকার টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
কেআরকের গ্রেপ্তার ও তার টুইট ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, ভারতে ক্রিকেট ও রাজনীতির সম্পর্ক কতটা গভীর? আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েই বা কতটা স্বাধীনভাবে কথা বলা যাচ্ছেে।