১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফ্রান্সের বুরগন অঞ্চলের আঙুর ক্ষেতে অভিবাসী শ্রমিকরাই ভরসা

ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলের ঐতিহাসিক বুরগন অঞ্চলে প্রতিবছর আঙুর সংগ্রহের মৌসুমে হাজারো বিদেশি মৌসুমি শ্রমিক কাজ করতে আসেন। স্থানীয় শ্রমিকের সংকট পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন সুদান, টিউনিশিয়া, মরক্কোসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা।

কোত দ’অর এলাকার পুলিনি-মঁত্রাশের একটি আঙুরক্ষেতে চলতি মৌসুমের প্রথম দিনে ৫০ জনের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। তাদের বেশিরভাগই সুদান থেকে আসা অভিবাসী। সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে তারা আঙুর সংগ্রহ করেন। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে কাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

২১ বছর বয়সী সুদানি শরণার্থী হিশাম ইলেকট্রিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মৌসুমি সময়ে আঙুরক্ষেতে কাজ করছেন। তার মতো অনেক অভিবাসীই বছরের অন্য সময় নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করেন।

ফ্রান্সের কৃষি শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান মিউতুয়ালিতে সোশিয়াল অ্যাগ্রিকোলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আঙুর সংগ্রহ মৌসুমে ৩৮ হাজার ৯৭ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৯ হাজার ৩০০ জনের বেশি ছিলেন বিদেশি।

তবে অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও আবাসন নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। একাধিক উপঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগের কারণে মজুরি ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ে বলে সতর্ক করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। ২০২৩ সালে কোত দ’অর এলাকায় ৭০ জনের বেশি স্প্যানিশ আঙুর সংগ্রহকারীকে অমানবিক আবাসনে রাখার ঘটনাও ধরা পড়ে।

পরিস্থিতি উন্নত করতে ২০২৫ সালে বুরগনের আঙুরচাষিদের পেশাজীবী সংগঠন, শ্রম পরিদর্শন বিভাগ ও মিউতুয়ালিতে সোশিয়াল অ্যাগ্রিকোল মিলে ‘কোয়ালিতেরিতোয়ার’ নামে একটি মানদণ্ড চালু করেছে। এতে মৌসুমি শ্রমিক নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

টিউনিশীয় শ্রমিক ওয়ালিদ এবার প্রায় ছয় মাস ধরে আঙুরক্ষেতের বিভিন্ন কাজে যুক্ত আছেন। আঙুরগাছ ছাঁটাই থেকে শুরু করে আঙুর সংগ্রহ পর্যন্ত নানা কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। এখন তার আশা, এই অভিজ্ঞতা তাকে বছরের শেষে স্থায়ী চাকরির চুক্তি পেতে সহায়তা করবে।

সূত্র : ইনফোমাইগ্রেন্টস বাংলা

Home R3