নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। কাদার স্রোত ও পানির তীব্র তোড়ে ভেসে গিয়ে দেশটিতে এখনও অন্তত ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। একই দুর্যোগে তিব্বত অংশে ৩ জনের মৃত্যু ও ৫৫৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, দুর্গত এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৮৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান পুরোদমে চলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। যার মধ্যে ভারতের ১৭৮ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, ইউক্রেনের ৫৩ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন এবং অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ জন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্রায় ১০০ জন নাগরিক এই বন্যায় নিখোঁজ রয়েছেন। চীন নেপালের সাথে সমন্বয় করে যৌথ অনুসন্ধান ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজের মধ্যে ২৬০ জনই বিদেশি বলে নিশ্চিত করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ ফেডারেশনের নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে এখনও চরম মানবিক সংকট বিরাজ করছে। রাস্তাঘাট ও সেতু ধসে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জেলাগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁবু ও শুকনো খাবার পাঠানো হচ্ছে। বহু গ্রাম ও বাজার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের মাত্র ৩ মিনিট পর বিধ্বংসী হড়পা বান ও পাহাড়ধস নামে। এতে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো পানির তোড়ে ভেসে যায়।
সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি।