৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের, নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটি শিগগিরই এমন উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে যা এখন পর্যন্ত চলমান সংঘাতে দেখা যায়নি বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের শত্রুদের সামনে নতুন হামলার ঢেউ আসছে এবং তাদের ‘বেদনাদায়ক আঘাত’ সহ্য করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, ইরানের নতুন অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি এখনো বড় পরিসরে মোতায়েন করা হয়নি। তবে দ্রুতই তা চলমান সংঘাতের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

নাইনি বলেন, গত বছরের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমানে ইরান অনেক বেশি প্রস্তুত। তিনি চলমান সামরিক সংঘাতকে ‘পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

আইআরজিসির এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, ইরানের নতুন অস্ত্রপ্রযুক্তি ও যুদ্ধকৌশল মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে ইরানের এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন অস্ত্র মোতায়েন করা হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

নাইনি আরও বলেন, “আমাদের উন্নত প্রযুক্তি ও নতুন কৌশল শত্রুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে। আমাদের সৈন্যরা মানসিক ও সামরিকভাবে যুদ্ধে প্রবেশের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এবং নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতে নতুন কৌশল প্রয়োগ করবে। এর ফলে সংঘাতে জড়িত দেশগুলোর অবস্থানেও পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে ইরানের এই ঘোষণার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর বর্তমানে ইরানের সামরিক পদক্ষেপের দিকেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা।