৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ওয়াকফ সম্পত্তি আর লুটপাট করে খাওয়া যাবে না: ধর্মমন্ত্রী

ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি আর ‘লুটপাট করে খাওয়া যাবে না’ এবং ওয়াকিফদের উদ্দেশ্যই বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে এসব সম্পত্তির বড় অংশ বেহাল অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ বছরে যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে ওয়াকফ সম্পত্তির পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়েছে।

ওয়াকিফদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বিষয়ে জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও জনকল্যাণমূলক কাজে দান করা সম্পত্তির আয় যেন নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকবে না।

রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেট-এর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি একটি ওয়াকফ স্টেট হলেও সেখানে ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুটের ৫৮৮টি দোকানের মাসিক ভাড়া এখনো ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১১৮ টাকার মধ্যে রয়েছে, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম।

এছাড়া চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহর অধীন একটি দোকানের ভাড়া আগে ৩৫ হাজার টাকা থাকলেও ২০২৫ সালে নতুনভাবে ভাড়া দেওয়ার পর তা বেড়ে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভাড়া বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন অসংখ্য ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলো থেকে প্রকৃত আয় আদায় করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সম্পত্তির ভাড়া বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রশাসকদের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।