৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক

এবার খ্রিস্টানদের ধর্ম পালনে বাধা; ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া ইউরোপের

এবার খ্রিস্টানদের ধর্ম পালনে বাধা; ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া ইউরোপের

শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ক্যাথলিক চার্চের শীর্ষস্থানীয়দের জেরুজালেমের “চার্চ অব দি হলি স্কালপচার”-এ পাম সানডের প্রার্থনায় অংশ নিতে বাধা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেরুজালেমের “লাতিন প্যাট্রিয়ারচেট অব জেরুজালেম” এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলি পুলিশ চার্চের শীর্ষস্থানীয়দের প্রবেশে বাধা দেয়। তারা এই ঘটনাকে “গুরুতর নজির” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর অনুভূতিকে আঘাত করেছে। প্রতিবেদন সিএনএনের।

“পাম সানডে” খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য পবিত্র সপ্তাহের শুরু। তাদের ধর্মের যিশু খ্রিস্টের জেরুজালেম আগমনের স্মরণে এটি পালন করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে “চার্চ অব দি হলি স্কালপচার”-কেই যিশুর সমাধি ও পুনরুত্থানের স্থান হিসেবে ধরা হয়।

বর্তমানে ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পূর্ব জেরুজালেমে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ এবং ওয়েস্টার্ন ওয়ালও রয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চার্চের বিবৃতিতে বলা হয়, শীর্ষ ধর্মীয় নেতা পিয়েরবাতিস্তা পিজ্জাবাল্লাসহ দুইজন ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থনায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের পথরোধ করে ফেরত পাঠানো হয়। তারা কোনো আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রার অংশ ছিলেন না।

এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিদ্বেষ ছিল না; বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তারা জানিয়েছে, ইস্টারের আগে চার্চ নেতাদের প্রার্থনার সুযোগ দেয়ার জন্য নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইসরাইলি পুলিশ জানায়, পুরোনো জেরুজালেম শহরের সব ধর্মীয় স্থান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, কারণ এলাকাটি নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা পরিচালনার জন্য জটিল।

এদিকে, ইসরাইলি পুলিশের এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় দেশ ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, হোলি সেপালখার চার্চ খ্রিস্টানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র স্থান, এটি রক্ষা করা উচিত। ধর্মীয় নেতাদের প্রবেশে বাধা দেয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি অপমান।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি এই সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার ঘোষণা দেন।

এর আগে সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কসহ একাধিক মুসলিম দেশ আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।