৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এপস্টেইন ফাইলস : ইমরান খানকে সরাতে পরিকল্পনা হয়েছিল ২০১৮ থেকেই

মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদী, বিল গেটস ও ইলন মাস্কসহ বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে ইমরান খানের নাম। তবে কোনো নারী কেলেঙ্কারির কারণে নয়। বরং তাকে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

২০১৮ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে জয়ের পর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ‘বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন কুখ্যাত ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন। সম্প্রতি আমেরিকার হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা যে নতুন দফা ইমেইল প্রকাশ করেছেন, সেখানেই এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায়, এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে এপস্টেইন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী ইমরান খানকে নিয়ে আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় তিনি ইমরান খানের তুলনা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে।

এপস্টেইন ফাইলসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে জিও নিউজ।

ইমেইলে এপস্টেইন লেখেন, ‘পাকিস্তানে ইমরান খান এরদোগান, খোমেনি, শি বা পুতিনের চেয়েও বিশ্ব শান্তির জন্য অনেক বড় হুমকি।’

আরেকজন প্রশ্ন করেন, ‘পাকিস্তানের ওই পপুলিস্ট?’ উত্তরে এপস্টেইন লেখেন, ‘খুবই খারাপ খবর।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও আইনস্টাইনের মতো দেখায়। সত্য বলার ক্ষমতা নেই। কট্টর ইসলামপন্থী।’

ওই কথোপকথনে এপস্টেইন ইমরান খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন। সেখানে তার বিয়ে, আগের ক্রিকেট ক্যারিয়ার এবং জনতাকে সহজে আকৃষ্ট করার ক্ষমতার কথাও উল্লেখ করা হয়।

প্রকাশিত একটি ইমেইলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ২০১৮ সাল থেকেই ইমরান খান ও তার দলকে ঘিরে নানা পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছিল। সেখানে তুরস্ক, রাশিয়া ও ইরানের নেতাদের চেয়েও তাকে বড় হুমকি বলা হয়। এমনকি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার দলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চিন্তার কথাও উঠে আসে বলে নথিতে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাবন্দী। দুর্নীতির একাধিক মামলায় পাকিস্তানের আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন।

জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন ধনী হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক। এক সময় তার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। তবে বিচার শুরুর আগেই ৬৬ বছর বয়সে তিনি আত্মহত্যা করেন।