পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ডাম্পট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে পাটগ্রাম পৌরসভার মির্জারকোট মডেল মসজিদের সামনে পাটগ্রাম-লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন পদক্ষেপ উন্নয়ন সংস্থার মাঠকর্মী দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মনসাপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৩৫), তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (৩০) এবং তাঁদের ৪ মাস বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল হুজাইফা। এ ঘটনায় আহত তাঁদের ১০ বছর বয়সী আরেক ছেলে শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ, পাটগ্রাম থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রামের কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে করে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন শরিফুল। ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে পাটগ্রাম পৌরসভার মির্জারকোট মডেল মসজিদের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ডাম্পট্রাকের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
পদক্ষেপ উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে।
শরিফুলের শ্যালক শামীম আহমেদ বলেন, ‘ঈদের আনন্দ এভাবে শোকে পরিণত হবে, তা আমরা কেউ ভাবিনি। গুরুতর আহত শিশুটিকে এখনো তাঁর বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।’
শামীম আরও জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণ করা হবে।
দুর্ঘটনার পরপর ডাম্পট্রাকটির চালক পালিয়েছেন বলে জানান লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা বড়খাতা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, নিহতদের মরদেহ পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ট্রাকটি শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে।