ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিমানগুলোর জন্য নিজের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে স্পেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এক মাসব্যাপী এই সংঘাতকে ঘিরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মাদ্রিদের বিরোধ আরও গভীর হয়েছে।
সোমবার (৩১ মার্চ) স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোব্লেস বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে অংশ নেওয়া কোনো বিমানই স্পেনের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এর মধ্যে ব্রিটেন বা ফ্রান্সসহ অন্যান্য ন্যাটো দেশে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত। এর আগে দক্ষিণ স্পেনের রোটা ও মোরন দে লা ফ্রন্তেরা যৌথ ঘাঁটি থেকে হামলা চালানোর অনুমতিও বাতিল করেছিল মাদ্রিদ।
রোব্লেস সাংবাদিকদের বলেন, একতরফাভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া কোনো যুদ্ধে স্পেন অংশ নেবে না বা সহযোগিতা করবে না।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও একই সুরে এই মার্কিন-ইসরাইলি অভিযানকে “অবৈধ, বেপরোয়া ও অন্যায় যুদ্ধ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫টি মার্কিন কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমান ফ্রান্স ও জার্মানির ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেনের আকাশসীমা ব্যবহার করা না যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে পরিচালিত দীর্ঘপাল্লার বি-৫২ ও বি-১ বোমারু বিমানগুলোকে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, ফলে অভিযানের কার্যকারিতা কমছে এবং জ্বালানি ও অস্ত্র বহনের মধ্যে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
এল পাইস পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর থেকে কোনো বড় পশ্চিমা মিত্রের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এটি সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য মতবিরোধ। তখন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও স্পেন যুক্তরাষ্ট্রকে তার ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।
ইরান যুদ্ধের বিরোধিতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে স্পেন অন্যতম সরব। দেশটি ইসরাইল থেকে তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কও নিম্নস্তরে নামিয়ে এনেছে। সানচেজ বারবার সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি ইরাক যুদ্ধের চেয়েও “অনেক ভয়াবহ” পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
স্পেনের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং ন্যাটোর ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণে স্পেনের ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেছেন।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলেও স্পেন জানিয়েছে, তারা ন্যাটোর প্রতি তাদের সামগ্রিক অঙ্গীকারে অটল রয়েছে। সামরিক জোট ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অন্যান্য নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ইউরোপে অবস্থানরত প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনার জন্য লজিস্টিক ও সহায়তার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান এখনও স্পেনের সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে।
সূত্র: আরটি