জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ভাসমান ড্রাম সেতু ভেঙে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন আপন ভাই-বোন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আরও অন্তত ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
দেওয়ানগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুনসুর আহামদ জানান, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত ওই ভাসমান সেতুতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ উঠে পড়েছিলো। অতিরিক্ত চাপে সেতুর মাঝখানের অংশটি হঠাৎ ভেঙে যায় এবং উপরে থাকা বেশ কিছু শিশু নদে পড়ে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। রাত আটটা পর্যন্ত চার শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতরা হলো—দেওয়ানগঞ্জের ডাকাতিয়া পাড়ার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়া মনি, ঝালুর চরের শের আলীর মেয়ে খাদিজা আক্তার ও ছেলে মোতালেব হোসেন এবং দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার বেলতলী এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন। নিহতদের মধ্যে খাদিজা ও মোতালেব আপন সহোদর।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে নদে তল্লাশি অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ঈদের খুশির দিনে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নদী তীরবর্তী পরিবেশ।