জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের পর এবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তার ছেলে আহমাদ আতাউল্লাহ সালমান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে সালমান বলেন, ‘আব্বুর এক্স (সাবেক টুইটার) আইডিটি হ্যাক হয়েছে। একটি চক্র নির্বাচনকে সামনে রেখে এই চক্রান্ত করছে। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। এর জবাব ১২ তারিখের ব্যালটের মাধ্যমে এই দেশের জনগণ দিবে ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাকের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার পর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স আইডি হ্যাকারদের কবলে পড়ে। পরে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই আইডি থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় আইটি টিম দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে আইডিটির পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আইডিটি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে একটি জরুরি ঘোষণা দেয়া হয়।
ঘটনার পর ওই রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরদিন সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সে সময় হ্যাকিংয়ের উৎস ও পদ্ধতি নিয়েও একটি প্রেজেন্টেশন দেয়া হয় বলে জানায় জামায়াত।
দলটির দাবি, তদন্তে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিসিয়াল ই-মেইলসহ একাধিক অফিসিয়াল ঠিকানায় একটি ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফিশিং মেইলটি বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় আজ সরাসরি বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি করে জামায়াত। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
তবে সামনে নির্বাচন থাকায় বিষয়টির গুরুত্ব উল্লেখ করে জামায়াতের পক্ষ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও রিপোর্ট সরকারিভাবে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, একটি সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-মেইল ব্যবহার করে ফিশিং ও হ্যাকিংয়ের চেষ্টা জাতির জন্য উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অপপ্রচারের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করে দলটি।