২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক

আমেরিকায় ভয়াবহ তুষারঝড়ে ১১ জনের মৃত্যু; বিদ্যুৎবিহীন প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ

আমেরিকায় ভয়াবহ তুষারঝড়ে ১১ জনের মৃত্যু; বিদ্যুৎবিহীন প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ

আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানা তীব্র শীতকালীন ঝড় লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। প্রচণ্ড তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও হিমায়িত বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ লাইন, গাছপালা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দৈনন্দিন জীবনও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং মানুষের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক জীবনযাপন ও জরুরি সেবাব্যবস্থার জন্যও এটি একটি ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত থেকে ঝড়টি আমেরিকার মধ্য-পূর্বাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত চলার কথা।

অত্যধিক ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে বরফ ও হিমায়িত বৃষ্টির সংমিশ্রণে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন-রাত কাটাচ্ছেন।

নিউয়র্ক সিটিতে রোববার রাতে পাঁচজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, ধারণা করা হয়েছে তারা তীব্র ঠান্ডায় মারা গেছেন। অস্টিন, টেক্সাসেও তীব্র ঠান্ডায় মৃত্যু হয়েছে। আরকানসাসে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর স্লেজিং করতে গিয়ে গাছে ধাক্কা খেয়ে মারা গেছেন, এবং মিশিগানে ১৯ বছর বয়সী লুকাস ম্যাটসন নামে ছাত্রের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া কিম্বল কাউন্টিতে টেক্সাসে ২০টি গাড়ির দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। রোবার দুপুরে প্রায় ১০ লক্ষ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন, যার মধ্যে টেনেসিতে ৯.২ শতাংশ এবং মিসিসিপিতে ৮ শতাংশ গ্রাহক। এরপরও সোমবার পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে। ১১টি রাজ্যে প্রায় ৬৫,০০০ কর্মী ক্ষতি মেরামত করছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসও ঝড়ের প্রভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিউয়র্ক, বাল্টিমোর, অ্যাটলান্টা, ন্যাশভিল, কলম্বাস, সিনসিনাটি সহ ছয় রাজ্যে স্কুল ডিসট্রিক্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিউ ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে, এবং মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে অর্ধ ইঞ্চি হিমায়িত বৃষ্টি পড়েছে।

পরিবহন খাতেও বিশাল প্রভাব দেখা দিয়েছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত ১০,৯০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩,৪০০টি ফ্লাইট দেরিতে ছিল। ওয়াশিংটন ডিসি, র‍্যালে-ডারহাম, বাল্টিমোর ও নিউ ইয়র্কে উল্লেখযোগ্য ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা কোভিড-১৯ মহামারীর পর সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হলো।

আমেরিকার জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ ব্রায়ান হার্লি বলেছেন, “বৃষ্টি থামলেও বিপদ শেষ নয়। কিছু অঞ্চলে বরফের স্তর সপ্তাহজুড়ে থাকবে, এবং বিদ্যুৎহীন মানুষের এক্সপোজার চিন্তার কারণ।” স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউ হ্যাম্পশায়ারের গভর্নর কেলি অ্যায়োট বলেছেন, “সম্ভব হলে বাইরে যাবেন না, এবং সতর্কতার সঙ্গে ঘরে থাকুন।”

ঝড়ের কারণে মানুষকে তার গৃহপালিত পশু, প্রতিবেশী এবং বয়স্কদের প্রতি সতর্ক হতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে ঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচতে এবং নিরাপদ থাকতে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আশা করা যায়, শীঘ্রই স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমে যাবে।

সূত্র : ইউএস টুডে